রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ০২:০৯ অপরাহ্ন

পাইপলাইনের অর্থ ব্যয়ের তাগিদ দিয়েছে (আইএমএফ)

প্রতিনিধির / ১২৬ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ৮ নভেম্বর, ২০২২
পাইপলাইনের অর্থ ব্যয়ের তাগিদ দিয়েছে (আইএমএফ)
পাইপলাইনের অর্থ ব্যয়ের তাগিদ দিয়েছে (আইএমএফ)

ইআরডির একাধিক কর্মকর্তা জানান, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছে আইএমএফ। এ সময় আইএমএফের প্রতিনিধিদলের নেতারা বলেন, পাইপলাইনে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি ডলারের মতো আছে। সেখান থেকে অর্থ খরচ বাড়াতে হবে। মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর প্রকল্প বাস্তবায়নের দক্ষতা বাড়ানো দরকার। সেই সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তির ক্ষেত্রে ইআরডির দক্ষতাও বাড়াতে হবে। এ ছাড়া বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়গুলোর আন্ত মন্ত্রণালয় সমন্বয় বাড়ানোর কথাও বলেছে প্রতিনিধিদল। অন্য এক কর্মকর্তা জানান, ইআরডির বিষয়ে কোনো অভিযোগ করেনি আইএমএফ।

দক্ষতা বৃদ্ধি করে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণ সহায়তার পাইপলাইনের অর্থ ব্যয়ের তাগিদ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।সংস্থাটির এশিয়া অঞ্চলের প্রধান রাহুল আনন্দের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধিদল গতকাল সোমবার সাক্ষাৎ করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিবের সঙ্গে। এ সময় তাঁরা এমন তাগিদ দিয়েছেন। রাজধানীর শেরেবাংলানগরে সচিবের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ হয়।

বৈঠক শেষে ইআরডির সচিব শরিফা খান সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি। তবে তিনি তাঁর প্রতিনিধির মাধ্যমে জানান, আইএমএফ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এটা ছিল সৌজন্য সাক্ষাৎ। তারা তেমন কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলেনি। আজ মঙ্গলবার অর্থ বিভাগ ও আইএমএফ আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিফ করবে। সেখানে এই কয়েক দিনের বিষয় তুলে ধরবে আইএমএফ।

পাইপলাইনে জমা ৫ হাজার কোটি ডলার

গত অর্থবছর (২০২০-২১) শেষে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ছিল ৬০.১৫ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে সরকারের ঋণ ৫০.৮৮ বিলিয়ন ডলার, যার মাত্র ১৫ শতাংশ চীন-রাশিয়ার। আর ৭৭ শতাংশই ছিল বিশ্বব্যাংক, এডিবি ও জাইকার। বর্তমানে পাইপলাইনে বিদেশি ঋণ রয়েছে ৫০.৩৫ বিলিয়ন ডলার। এ ঋণেরও বড় অংশই বিশ্বব্যাংক, এডিবি ও জাইকার।

ইআরডির তথ্য মতে, বর্তমানে পাইপলাইনে বিদেশি ঋণ সবচেয়ে বেশি জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা)। সংস্থাটি আগামী কয়েক বছরে ৯৮৭ কোটি ৮৯ লাখ ডলার ঋণ দেবে বাংলাদেশকে, যা পাইপলাইনে থাকা ঋণের ১৯.৬২ শতাংশ। পাইপলাইনে থাকা ঋণের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পরিমাণ রাশিয়ার। এর পরিমাণ ৭৮২ কোটি ৩৩ লাখ ডলার, যা পাইপলাইনে থাকা ঋণের ১৫.৫৪ শতাংশ।

পাইপলাইনে থাকা সরকারের তৃতীয় সর্বোচ্চ বিদেশি ঋণ বিশ্বব্যাংকের। সংস্থাটির আইডিএ তহবিল থেকে আগামী কয়েক বছরে ৭৫৫ কোটি ২৪ লাখ ডলার ঋণ পাবে বাংলাদেশ, যা পাইপলাইনে থাকা ঋণের ১৫ শতাংশ। এ ছাড়া ভারতের ঋণ আটকে রয়েছে ৬৫৮ কোটি ২৯ লাখ ডলার, যা পাইপলাইনে থাকা ঋণের ১৩.০৮ শতাংশ।

পাইপলাইনে ঋণ আটকে থাকার দিক থেকে পঞ্চম অবস্থানে আছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থাটি আগামী কয়েক বছরে বাংলাদেশকে ৬০৫ কোটি ৮৩ লাখ ডলার ঋণ দেবে, যা পাইপলাইনের ১২.০৩ শতাংশ। এর পরের অবস্থানে রয়েছে চীন। দেশটি বিভিন্ন প্রকল্পে বাংলাদেশকে ৪৬৬ কোটি ৯৩ লাখ ডলার ঋণ দেবে, যা পাইপলাইনে থাকা ঋণের ৯.২৭ শতাংশ।

এদিকে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) থেকে কয়েক বছরে বাংলাদেশ ঋণ পেতে যাচ্ছে ১৬৩ কোটি ৫৬ লাখ ডলার, যা পাইপলাইনে থাকা ঋণের ৩.২৫ শতাংশ। এটিও সহজ শর্তের ঋণ। এর বাইরে অন্যান্য উৎস থেকে কয়েক বছরে বাংলাদেশ ঋণ নিতে যাচ্ছে আরো ৬১৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যা পাইপলাইনে থাকা ঋণের ১২.২১ শতাংশ।

দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগের গতিপ্রকৃতি জানল আইএমএফ

দেশে চলমান অর্থনৈতিক সংকটের মুখে বৈদেশিক বিনিয়োগের গতিপ্রকৃতি জানল আইএমএফ। এর পাশাপাশি পরামর্শ হিসেবে কারখানাগুলোতে কমপ্ল্যায়েন্স ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির বেশি ব্যবহারের সুপারিশ করেছে। গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়ার সঙ্গে এক বৈঠকে এসব বিষয় জানে সংস্থাটি। সংস্থাটির মিশনপ্রধান রাহুল আনন্দ এবং বিডার একাধিক কর্মকর্তা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তারা আমাদের বিনিয়োগ পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চেয়েছে। তারা বলেছে, আমাদের সম্পর্কে আইএমএফ অনেক ইতিবাচক। কারণ আমাদের বিনিয়োগ পরিবেশ অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক ভালো। আমরা আইএমএফকে আমাদের বিনিয়োগ পরিস্থিতি জানিয়েছি। ’

নাম না প্রকাশ করার শর্তে বিডার এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় বৈদেশিক বিনিয়োগ কম, তা ১ শতাংশের কাছাকাছি। আইএমএফ জানতে চেয়েছে এই পরিস্থিতিতে বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য আমরা কী কী ব্যবস্থা নিয়েছি। সে বিষয়গুলো বিডার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘তারা জানতে চেয়েছে আমাদের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর পরিস্থিতিগুলো কী? আমরা সেগুলো ব্যাখ্যা করেছি। তারা কমপ্লায়েন্সের কথা বলেছে। আমরা সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছি। ’

পুঁজিবাজারের সংস্কার চায় আইএমএফ

দেশের পুঁজিবাজারের অবকাঠামো উন্নয়নে অটোমেশনের পাশাপাশি সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ। এ ছাড়া কমোডিটি এক্সচেঞ্জ মার্কেট, রিয়েল এস্টেট এবং শেয়ার মার্কেটে অন্যান্য খাতের তালিকাভুক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চেয়েছে। একই সঙ্গে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে।রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সিকিউরিটিজ কমিশন ভবনে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় আইএমএফের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ পরামর্শ দেওয়া হয়। বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি আইএমএফের সঙ্গে বৈঠক করে।

বৈঠকে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, আইএমএফ আলোচনায় অটোমেশন পেয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। তিনি বলেন, আইএমএফ জানতে চেয়েছে বিএসইসি পুঁজিবাজারের উন্নয়নে কী কী উদ্যোগ নিয়েছে। ক্যাপিটাল মার্কেট স্টেবিলাইজেশন ফান্ডের ব্যাপারে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছে।পুঁজিবাজারে ফ্লোর প্রাইস নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে রেজাউল করিম বলেন, ‘ফ্লোর প্রাইস ধারণাটি তাদের জানা নেই। ফ্লোর প্রাইস নিয়ে কোনো আলোচনার সুযোগই ছিল না। কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাজার উন্নয়নে যদি কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, এসব বিষয়ে তাদের কোনো সুপারিশ থাকে না। ’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: