রবিবার, ১৯ মে ২০২৪, ১১:০১ অপরাহ্ন

বিদেশী ঋণের দায় পরিশোধের চাপে পড়েছে বাংলাদেশ

প্রতিনিধির / ১০৬ বার
আপডেট : বুধবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২২
বিদেশী ঋণের দায় পরিশোধের চাপে পড়েছে বাংলাদেশ
বিদেশী ঋণের দায় পরিশোধের চাপে পড়েছে বাংলাদেশ

ইআরডির হালনাগাদ তথ্য থেকে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) কমেছে বৈদেশিক ঋণের অর্থ ছাড়। প্রথম তিন মাসে ১৩৪ কোটি ৯২ লাখ ৫০ হাজার ডলার ছাড় করেছে উন্নয়ন সহযোগীরা, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে ছাড় হয়েছিল ১৯৩ কোটি ৮০ লাখ ৫০ হাজার ডলার। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে অর্থছাড় কমেছে প্রায় ৫৯ কোটি ডলার। এ দিকে ঋণ পরিশোধেই প্রথম প্রান্তিকে ব্যয় হয়েছে ৫২ কোটি ৫৬ লাখ ১০ হাজার ডলার, যা মোট ঋণের প্রায় ৩৯ শতাংশ। সুদ দিতে হয়েছে ১৩ কোটি ৭০ লাখ ৩০ হাজার ডলার এবং মূলধন খাতে ৩৮ কোটি ৮৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার। যদিও প্রথম প্রান্তিকে বেড়েছে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি।

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে ৪০ কোটি ৫৪ লাখ ডলার, যার বেশির ভাগই প্রকল্প ঋণ। এখন খাদ্য খাতে সহায়তা পাওয়া যায়নি। ৩০ কোটি দুই লাখ ডলার হলো ঋণ এবং ১০ কোটি ৫২ লাখ ডলার হলো অনুদান। গত অর্থবছর একই সময়ে মাত্র ৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার প্রতিশ্রুতি দেয় দাতারা। মাত্র ৪০ কোটি ৫৪ লাখ ডলার ঋণের চুক্তি হয়েছে অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে। যদিও গত বছরের প্রথম তিন মাসে মাত্র ৯ কোটি ৪০ লাখ ডলারের নতুন প্রতিশ্রুতি পাওয়া গিয়েছিল।

এ দিকে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে সরকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় ঋণ ও অনুদান মিলে ৯৩ হাজার কোটি টাকা বা প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার প্রাপ্তির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। এই লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রতি মাসে ৮৩ কোটি ডলার করে ছাড় হতে হবে। সে অনুযায়ী দুই মাসে কমপক্ষে ২৪৯ কোটি ডলার অর্থছাড়ের কথা ছিল। কিন্তু সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অর্থছাড় বেশ পিছিয়ে আছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ডলার ও জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দায় বিদেশী ঋণের দায় পরিশোধের চাপে পড়েছে বাংলাদেশ। প্রতিশ্রুতি বাড়লেও দাতাদের অর্থ ছাড় কমে গেছে। গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) তুলনায় চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময়ে ছাড় কমেছে ৫৮ কোটি ৮৮ লাখ ডলার। তবে কমেছে ঋণের অর্থ পরিশোধের পরিমাণ। আর মূল টাকার প্রায় অর্ধেকের সমপরিমাণ দিতে হচ্ছে সুদ। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সর্বশেষ তথ্য থেকে এসব জানা গেছে। সঙ্কটকালে বৈদেশিক উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থছাড়ের ধারা আগের চেয়ে কমেছে। অন্য দিকে প্রতিশ্রুত অর্থ পাওয়ার পাশাপাশি ঋণ পরিশোধের চাপে আছে বলে ইআরডি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ইআরডির কর্মকর্তারা জানান, অর্থবছরের প্রথম দিকে সাধারণ উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ ব্যয় কম হয়। বেশ কিছু মন্ত্রণালয় ও বিভাগ বৈদেশিক সহায়তা বরাদ্দের ১ শতাংশের কম অর্থ ব্যয় করেছে। বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ বৈদেশিক সহায়তা বরাদ্দের কোনো অর্থ ব্যয় করতে পারেনি। তবে অর্থবছরের শেষ দিকে অর্থ ব্যয় বাড়বে।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুরের সাথে বিদেশী ঋণপ্রাপ্তি ও ছাড়ের ব্যাপারে কথা হলে তিনি বলেন, গত কয়েক অর্থবছরে বাজেট সহায়তা ও কোভিড সহায়তা অর্থছাড়ে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় চলতি অর্থবছরেও উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাজেট সহায়তার জন্য আলোচনা চলছে। তবে উন্নয়ন সহযোগীদের শর্ত মেনে বিভিন্ন সেক্টরে সংস্কার না করা হলে বাজেট সহায়তা পাওয়া কঠিন হবে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: