শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন

যমুনা রিভার ইকোনমিক করিডোর উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে(বিআইডব্লিউটিএ)

প্রতিনিধির / ১০৪ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২২
যমুনা রিভার ইকোনমিক করিডোর উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে(বিআইডব্লিউটিএ)
যমুনা রিভার ইকোনমিক করিডোর উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে(বিআইডব্লিউটিএ)

যমুনা নদীর আগ্রাসী বন্যা ও তার প্রশস্ততা কমিয়ে আনতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং নৌ পরিবহণ মন্ত্রণালয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে তীর সংরক্ষণ এবং নদীর শাসন, নেভিগেশন চ্যানেল উন্নয়ন, দুর্যোগ ঝুঁকি অর্থায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে পাইলটিং করার জন্য প্রায় ২.৮ বিলিয়ন ডলার বা ২৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৯০ টাকা হিসেবে) প্রয়োজন হবে।

যার বড় অংশই দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। তবে এ টাকার ১৫ ভাগ টাকা বাংলাদেশ সরকারকে দিতে হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহণ কর্তপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এর পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত ‘যমুনা রিভার ইকোনমিক করিডোর উন্নয়ন (নেভিগেশনাল চ্যানেল উন্নয়ন, ১ম পর্যায়)’-শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৬১৩ কোটি টাকা এর মধ্যে বিশ্বব্যাংক দেবে ৫০৯ কোটি টাকা এবং সরকার দেবে ১০৪ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর প্রধান প্রকৌশলী রকিকুল ইসলাম তালুকদার বার্তা২৪.কমকে বলেন, যমুনা রিভার ইকোনমিক করিডোর উন্নয়ন (নেভিগেশনাল চ্যানেল উন্নয়ন, ১ম পর্যায়) প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি বর্তমানে অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে রয়েছে।পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, তারাও বিআইডব্লিউটিএর মতো করে ‘তীর সংরক্ষণ ও নদীর শাসন’ বিষয়ক প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করেছে যা পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। কত টাকার প্রকল্প তা নিশ্চিত করে জানা যায়নি।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যমুনা বাংলাদেশের প্রধান তিনটি নদীর একটি। এটি ব্রহ্মপুত্র নদীর প্রধান শাখা। নদীটির প্রশস্ততা ৩ কিঃ মিঃ থেকে ২০ কিঃ মিঃ পর্যন্ত, তবে এর গড় প্রশস্ততা প্রায় ১০ কিঃ মিঃ। বাস্তবে যমুনা একটি চর সৃষ্টিকারী নদী। কয়েকশত মিটার থেকে কয়েক কিঃ মিঃ প্রশস্ততা বিশিষ্ট বিশাল আকৃতির চর এবং সর্পিলাকৃতির বিভিন্ন প্যাটার্নের প্রবাহ খাত নিয়ে যমুনা নদী গঠিত।

চরগুলো বর্ষা মৌসুমে ডুবে যাওয়ার ফলে নদীটি একটি একক নদীতে পরিণত হয়। প্রবাহিত পানি ধারণ করার পর্যাপ্ত জায়গা না থাকার কারণে বন্যার সৃষ্টি হয়। নদী, নালা, খাল-বিল সমৃদ্ধ এ ব-দ্বীপের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ ব-দ্বীপ ২১০০ প্রণয়ন হয়েছে। এ ব-দ্বীপ বিনিয়োগ পরিকল্পনার অন্যতম প্রকল্প হচ্ছে Integrated Jamuna Rivers Stabilization and Reclamation প্রকল্প।

এ প্রকল্পটি অর্থায়নের জন্য বিশ্ব ব্যাংককে অনুরোধ করা হয়। এ বিষয়ে বিশ্ব ব্যাংক IWM সহায়তায় একটি সমীক্ষা পরিচালনা করে “Jamuna River Economic Corridor Development Project” শীর্ষক একটি মেগা প্রকল্পের রূপরেখা প্রণয়ন করেছে। এটি মোট ১০ বছরে ৩টি পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হবে। যমুনা নদীকে সঠিক শাসনপূর্বক পুনরুদ্ধার করে একটি নতুন অবয়ব প্রদান করা হবে, যাকে ঘিরে ঘটবে ব্যাপক অর্থনৈতিক কর্মকান্ড।

ব-দ্বীপ পরিকল্পনায় বর্ণিত Multi Sectorial Approach এবং Adaptive Delta Management কৌশলের সাথে প্রস্তাবিত এ প্রকল্প বাস্তবায়নে কৌশলের সঙ্গতি রয়েছে। প্রস্তাবিত “Jamuna River Economic Corridor Development Project” শীর্ষক প্রকল্পের পাঁচটি কম্পোনেন্ট

প্রধান প্রকৌশলী আরো বলেন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড “তীর সংরক্ষণ ও নদীর শাসন” এবং বিআইডব্লিউটিএ “নেভিগেশন চ্যানেল উন্নয়ন” বাস্তবায়ন করবে। “নেভিগেশন চ্যানেল উন্নয়ন” অংশের সমীক্ষা কাজ এবং প্রকল্প প্রস্তাব তৈরীর লক্ষ্যে বিশ্ব ব্যাংক কর্তৃক (ইন্টারন্যাশনাল মেরিট ড্রেজিং কনসালটেন্ট (IMDC) পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়েছে।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক একটি খসড়া “যমুনা নদীর ইকোনমিক করিডোর উন্নয়ন (নেভিগেশনাল চ্যানেল উন্নয়ন-১ম পর্যায়)” শীর্ষক প্রকল্প প্রস্তাব তৈরী করা হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে প্রভূত উন্নতি হবে।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সুপারিশের আলোকে “যমুনা নদীর ইকোনমিক করিডোর উন্নয়ন (নেভিগেশনাল চ্যানেল উন্নয়ন-১ম পর্যায়)” শীর্ষক প্রকল্পের জন্য ৬১৯৫৯.০০ লক্ষ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়।

প্রকল্পটির উপর গত ০১.০২.২২ তারিখে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প যাচাই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্প যাচাই কমিটির সুপারিশের আলোকে ৬১৩০০.১৬ লক্ষ টাকায় প্রকল্পটি পূনঃগঠন করে গত ২৭.০৪.২২ তারিখে পরিকল্পনা কমিশনের প্রেরণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন আছে।

এ প্রকল্পের মাধ্যমে নৌ-চলাচল সহায়ক সরঞ্জামাদি সরবরাহ, স্থাপন এবং পরিচালন, রিভার ইনফরমেশন সিস্টেম (RIS) সরবরাহ, স্থাপন এবং পরিচালন, ২টি হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে ভেসেল, ৩টি বয়া হ্যান্ডেলিং ভেসেল এবং ৫টি ফাষ্ট ট্রানজিট ভেসেল ক্রয়, ১টি প্রোটোটাইপ সেলফ প্রোপেল্ড বার্জ ক্রয় , ২টি প্রোটোটাইপ ভাসমান জেটি ক্রয়, ২য় পর্যায়ের ড্রেজিং এর পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা ও অন্যান্য কাজের সম্ভাব্যতা সমীক্ষাসহ বিবিধ পরামর্শ সেবা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: