বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন

১৬ লাখ মে.টন জ্বালানি তেল আমদানি করবে বিপিসি

প্রতিনিধির / ৩০৮ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৩ জুলাই, ২০২৩
১৬ লাখ মে.টন জ্বালানি তেল আমদানি করবে বিপিসি
১৬ লাখ মে.টন জ্বালানি তেল আমদানি করবে বিপিসি

চলতি বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের জন্য দেশের জ্বালানি তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখতে ১৫ লাখ ৮৫ হাজার মে.টন জ্বালানি আমদানি করবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এতে মোট ব্যয় হবে ১২ হাজার ২৭৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়ের জন্য পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির লক্ষে ৫টি প্যাকেজে বিভক্ত করে আন্তর্জাতিক কোটেশনের মাধ্যমে ২টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করা হবে। দরপ্রস্তাবের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশকৃত রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান (১) ইউনিপেক সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড, সিঙ্গাপুর (প্যাকেজ-এ ও ই) এবং (২) ভাইটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড, সিঙ্গাপুর (প্যাকেজ বি সি ও ডি) থেকে মোট ১৫ লাখ ৮৫ হাজার মে.টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে। এতে ব্যয় হবে ১১২ কোটি ৬০ লাখ ৯৬ হাজার ২৫৪ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২ হাজার ২৭৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সাল থেকে বিপিসি দেশের মোট চাহিদার ৫০ শতাংশ জ্বালানি তেল কোটেশন প্রক্রিয়ার (দরপত্র) মাধ্যমে আমদানি করে থাকে। জ্বালানি তেলের সরবরাহ উৎস বহুমুখীকরণ, সরবরাহ লাইন-আপ অধিকতর নিশ্চিতকরণ এবং প্রতিযোগিতামূলক দর পাওয়ার লক্ষ্যে আমদানিতব্য জ্বালানি তেলের পরিমাণকে ৫টি প্যাকেজে (এ, বি, সি, ডি এবং ই) বিভক্ত করে ২০২৩ সালের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের জন্য আন্তর্জাতিক কোটেশন আহ্বান করা হয়। দরপত্রের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মোট ৭টি দরপত্র জমা পড়ে।

সূত্র আরও জানায়, একটি একক দরপত্রের মাধ্যমে ৫টি প্যাকেজের আওতায় জ্বালানি তেল ক্রয়ের প্রক্রিয়া করা হয়। দর প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক একজন দরদাতাকে ৫টি প্যাকেজের সবকয়টি অথবা যে কোনও সংখ্যক প্যাকেজের জন্য দরপ্রস্তাব করার সুযোগ রাখা হয়। দরপত্র দলিলের ক্লজ-৬(ররর) অনুযায়ী প্যাকেজের ‘এ’ এবং ‘বি’ তে আলাদাভাবে ওয়েটেড অ্যাভারেজ অনুযায়ী এবং প্যাকেজ ‘সি’ ‘ডি’ এবং ‘ই’ তে ১টি করে পণ্য হওয়ায় প্রস্তাবিত দর অনুযায়ী সর্বনিম্ন দর নির্ধারণ করা হয়েছে। চাহিদার বিপরীতে আমদানিতব্য পরিমাণে ফ্লেক্সিবিলিটি বিবেচনা করে কোটেশন প্রক্রিয়ায় গ্যাস অয়েল (ডিজেল) আমদানির ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ চাহিদা বিবেচনা করে পণ্যের মূল্য (প্রিমিয়ামের ভিত্তিতে) নির্ধারণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পরিমাণ বিবেচনা করা হয়েছে।গত ৮ জুন অনুষ্ঠিত দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সভায় অংশ নেওয়া ৪ প্রতিষ্ঠানের দাখিল করা কোটেশনের কারিগরি ও আর্থিক বিষয়াদি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মূল্যায়ন কমিটির প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়। প্রাথমিক কারিগরি মূল্যায়নে গ্রহণযোগ্য ৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২টি দরদাতা প্রতিষ্ঠান ভিটল এশিয়া পিটিই লিমিটেড, সিঙ্গাপুর এবং ইউনিপেক সিঙ্গাপুর পিটিই, সিঙ্গাপুর দরপত্রের সব শর্ত প্রতিপালন করায় তাদের দরপত্র গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়।

সূত্র জানায়, বিপিসি’র প্রস্তাব অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব বাজেট বরাদ্দ, জ্বালানি তেল বিক্রির অর্থ এবং অন্য উৎস থেকে ঋণ নেওয়ার মাধ্যমে জ্বালানি তেল আমদানির অর্থায়ন করা হবে। প্রযোজ্য লুল্ক ও ভ্যাট বিপিসি’র নিজস্ব তহবিল থেকে পরিশোধ করা হবে।

বিপিসি ২০২৩ সালের জুলাই-ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ মাসের জন্য গ্যাস অয়েল আমদানি করবে ১২ লাখ মেট্রিক টন, বাংলাদেশি টাকায় দাম পড়বে ৯ হাজার ৩৮৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা। জেট এ-১ এক লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন আমদানিতে ব্যয় হবে এক হাজার ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা। ফার্নেস অয়েল এক লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন আমদানি করতে ব্যয় হবে ৬৪৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা। মোগ্যাস ৮০ হাজার মেট্রিক টন আমদানি করতে ব্যয় হবে ৭৫২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা এবং মেরিন ফুয়েল ৩০ হাজার মেট্রিক টন আমদানি করতে ব্যয় হবে ২০৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ সর্বমোট ১৫ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন ৫ ধরনের জ্বালানি তেল আমদানিতে ব্যয় হবে ১২ হাজার ২৭৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

Categories

%d bloggers like this:
%d bloggers like this: